IQNA

ভিডিও | বারাসা জমিন—হযরত মরিয়ম (সা.)-এর ঘর ও হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মস্থান

8:08 - December 27, 2025
সংবাদ: 3478679
ইকনা- বাগদাদের বাইরে অবস্থিত বারাসা মসজিদের গুরুত্ব শুধু আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর খারিজী যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে সেখানে নামাজ আদায় এবং তাঁর এক লক্ষ সৈন্যের উপস্থিতির ঐতিহাসিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো এই পবিত্র জমিনের সাথে কুরআনের শিকড়ে বর্ণিত হযরত ঈসা মসীহ (আ.)-এর জন্ম ও হযরত মরিয়ম (সা.)-এর ঘরের গভীর সম্পর্ক।

ইকনা জানায়, বাগদাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত বারাসা মসজিদ শুধু একটি শিয়া পবিত্র স্থান নয়—এটি প্রাথমিক ইসলামী যুগে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের গভীর মিলনস্থলের জীবন্ত সাক্ষী। শেখ সাদুক ও শেখ তুসীর প্রামাণ্য রেওয়ায়াত অনুযায়ী, এই মসজিদ সেই স্থানে নির্মিত যেখানে হযরত আলী (আ.) খারিজীদের সাথে যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে এর পবিত্রতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নামাজ আদায় করেন। সেখানে এক খ্রিস্টান সন্ন্যাসী তাঁকে জানান যে, এই জমিনই হলো হযরত মরিয়ম (সা.)-এর ঘর ও হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মস্থান—যে স্থানটি আসমানী কিতাবে নবীদের দ্বারা প্রতিশ্রুত ছিল। সেই স্থান যেখানে ইমাম আলী (আ.) নিজেই মরিয়ম (আঃ)-এর অন্তর্গতা সেই কুয়া প্রকাশ করেছিলেন। এবং তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিলেন

বাগদাদের নিকটবর্তী বারাসা মসজিদ ইরাকের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। এর গুরুত্ব শুধু আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর খারিজী যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার সময় তাঁর ও তাঁর এক লক্ষ সৈন্যের উপস্থিতি ও নামাজের ঐতিহাসিকতায় নয়—বরং এর সাথে হযরত ঈসা মসীহ (আ.) ও হযরত মরিয়ম (সা.)-এর ঐতিহাসিক শিকড়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ঐশী সত্যায়ন ও জমিনের পবিত্রতা জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ আনসারী থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াত অনুযায়ী, খারিজী যুদ্ধের পর বারাসায় (যা তখন একটি সন্ন্যাসী আশ্রম ছিল) সম্মিলিত নামাজের পর এক খ্রিস্টান সন্ন্যাসী তাঁর আশ্রম থেকে নেমে এসে ইমাম (আ.)-এর সেনাবাহিনীর মহান নেতৃত্ব দেখে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। সন্ন্যাসী আসমানী কিতাবের ভিত্তিতে জানান যে, এই স্থানটি অত্যন্ত বিশেষ এবং তিনি এর সম্মানে নিজের আশ্রম নির্মাণ করেছেন।

 

فیلم| زمین براثا؛ خانه مریم(س) و زادگاه عیسی(ع)

সন্ন্যাসী আরও বলেন, এই স্থানই বারাসা—হযরত মরিয়ম (সা.)-এর ঘর ও হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মস্থান—যার কথা পূর্ববর্তী নবীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এখানে নবীর ওয়াসি অবতরণ করবেন।

এই কথোপকথনের পর ইমাম আলী (আ.) মাটিতে আঘাত করে হযরত মরিয়ম (সা.)-এর চশমা প্রকাশ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, সতের হাত গভীর পর্যন্ত খনন করা হোক। তখন একটি সাদা পাথর বের হয়।

ইমাম (আ.) জোর দিয়ে বলেন যে, হযরত মরিয়ম (সা.) এই স্থানেই হযরত ঈসা (আ.)-কে মাটিতে রেখেছিলেন এবং নামাজ আদায় করেছিলেন। ইমাম (আ.) সেই পাথরের ওপর নামাজ আদায় করেন এবং সেখানে চল্লিশ দিন অবস্থান করেন।

فیلم| زمین براثا؛ خانه مریم(س) و زادگاه عیسی(ع)

মসজিদের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বারাসা মসজিদ ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং বহুবার সংস্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্কারে এর আয়তন প্রায় চার হাজার বর্গমিটারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে এতে দুটি মিনার এবং সাজ কাঠের ছাদ রয়েছে—যা ইসলামী স্থাপত্যশিল্প ও ঐতিহাসিক মূল্যের সুন্দর সমন্বয়ের প্রতীক।

বারাসা মসজিদ বহুবার সংস্কার করা হয়েছে। ১০৭০ হিজরি ও ১৩৫২ হিজরিতে এর বড় ধরনের সংস্কার হয়। বর্তমান দুটি মিনার ১৩৭৫ হিজরিতে নির্মিত।

এই মসজিদে বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং একটি গ্রন্থাগার আছে যা গত শতাব্দীর ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে ২১ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে।

এই মসজিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আইম্মায়ে আতহার (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও আযাদারি, মধ্য শাবানের অনুষ্ঠান, তাসুয়া ও আশুরার আযাদারি, পবিত্র রমাদানের ইহইয়া এবং আরবাঈনের মওকিবদের আপ্যায়ন। 4324838#

فیلم| زمین براثا؛ خانه مریم(س) و زادگاه عیسی(ع)

captcha